পেঁয়াজ কলি এর বর্ণনা


শেয়ার করুন

পেঁয়াজ কলি

উপকারিতা ও অপকারিতা

যার জন্য উপকারী কারণ
সাধারণ সর্দি-কাশি (Common cold)

 পেঁয়াজ জাতীয় যেকোন উদ্ভিদে অ্যান্টিবায়োটিক গুণাবলী রয়েছে। পেঁয়াজের কলিতে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ভাইরাল উপাদান রয়েছে যা ভিটামিন সি এর সাথে যুক্ত হয়ে ক্ষতিকারক মাইক্রো-অরগানিসম দূর করতে সাহায্য করে। সাধারণ ঠাণ্ডা-কাশি, ছত্রাকের সংক্রমণে সৃষ্ট রোগ, ফ্লু ইত্যাদি কমাতে পেঁয়াজের কলিতে বিদ্যমান প্রাকৃতিক উপাদানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।     

ফ্লু (Flu)

 পেঁয়াজ জাতীয় যেকোন উদ্ভিদে অ্যান্টিবায়োটিক গুণাবলী রয়েছে। পেঁয়াজের কলিতে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ভাইরাল উপাদান রয়েছে যা ভিটামিন সি এর সাথে যুক্ত হয়ে ক্ষতিকারক মাইক্রো-অরগানিসম দূর করতে সাহায্য করে। সাধারণ ঠাণ্ডা-কাশি, ছত্রাকের সংক্রমণে সৃষ্ট রোগ, ফ্লু ইত্যাদি কমাতে পেঁয়াজের কলিতে বিদ্যমান প্রাকৃতিক উপাদানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।     

রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস (Rheumatoid arthritis)

পেঁয়াজের কলিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান রয়েছে। রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস প্রতিকারে পেঁয়াজের কলি বেশ উপকারী। পেঁয়াজের কলির রস পোকা-মাকড়ের কামড় থেকে রক্ষা করে। আক্রান্ত স্থানে পেঁয়াজের কলির রস লাগালে ফাংগাল ইনফেকশন কমে যায়। পেঁয়াজের কলিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে যা কালশিটে দাগ বা ব্রুইস দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়াও এটা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ভিটামিন ই সমৃদ্ধ পেঁয়াজের কলিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এই ধরণের ভিটামিনগুলো মানব কোষের জন্য ক্ষতিকারক ফ্রি র‍্যাডিকেল বা মুক্তমূলক থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। 

খাদ্যনালীর ক্যান্সার (Esophageal cancer)

পেঁয়াজের কলিকে এক ধরণের ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটা ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খাদ্যনালী, পাকস্থলী, প্রোস্টেট, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল নালীর ক্যান্সার প্রতিরোধে পেঁয়াজের কলি গ্রহণ করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। পেঁয়াজের কলিতে বিদ্যমান সেলেনিয়াম (Selenium) শরীরকে বিষাক্ত পদার্থ এবং ক্ষতিকারক ফ্রি র‍্যাডিকেল বা মুক্তমূলক থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

প্রস্টেট ক্যান্সার (Prostate cancer) পেঁয়াজের কলিকে এক ধরণের ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটা ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খাদ্যনালী, পাকস্থলী, প্রোস্টেট, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল নালীর ক্যান্সার প্রতিরোধে পেঁয়াজের কলি গ্রহণ করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। পেঁয়াজের কলিতে বিদ্যমান সেলেনিয়াম (Selenium) শরীরকে বিষাক্ত পদার্থ এবং ক্ষতিকারক ফ্রি র‍্যাডিকেল বা মুক্তমূলক থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।
পাকস্থলীর ক্যান্সার (Stomach cancer)

পেঁয়াজের কলিকে এক ধরণের ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটা ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খাদ্যনালী, পাকস্থলী, প্রোস্টেট, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল নালীর ক্যান্সার প্রতিরোধে পেঁয়াজের কলি গ্রহণ করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। পেঁয়াজের কলিতে বিদ্যমান সেলেনিয়াম (Selenium) শরীরকে বিষাক্ত পদার্থ এবং ক্ষতিকারক ফ্রি র‍্যাডিকেল বা মুক্তমূলক থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

অন্ত্রের ক্যান্সার (Intestinal cancer)

পেঁয়াজের কলিকে এক ধরণের ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটা ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খাদ্যনালী, পাকস্থলী, প্রোস্টেট, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল নালীর ক্যান্সার প্রতিরোধে পেঁয়াজের কলি গ্রহণ করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। পেঁয়াজের কলিতে বিদ্যমান সেলেনিয়াম (Selenium) শরীরকে বিষাক্ত পদার্থ এবং ক্ষতিকারক ফ্রি র‍্যাডিকেল বা মুক্তমূলক থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

উচ্চ রক্তচাপ (High blood pressure)

পেঁয়াজ জাতীয় যেকোন উদ্ভিদে প্রচুর পরিমাণে ফ্লাভোনয়েড রয়েছে যা রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। পেঁয়াজের কলিতে বিদ্যমান সালফাইট রক্তে লিপিডের পরিমাণ কমাতে সহায়তা করে। পেঁয়াজের কলিতে যে ধরণের উপাদান রয়েছে তা রক্ত জমাট বাধতে দেয়না। এতে বিদ্যমান ভিটামিন সি রক্তজালিকার স্থিতিশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে। পেঁয়াজের কলিতে ফলিক এসিড রয়েছে যা রক্তনালীকে সংকোচিত হতে বাধা প্রদান করে। এছাড়াও এটা গ্রহণ করলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। 

বদহজম (Indigestion)

পেঁয়াজের কলিতে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা খাদ্য হজমে বেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ব্যাকটেরিয়া ছত্রাকের সংক্রমণ থেকে পরিপাক নালীকে সুরক্ষা প্রদান করে পেঁয়াজের কলিতে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ক্ষমতা রয়েছে যা ৩০ প্রজাতির স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলোর কারনেই মূলত পরিপাকতন্ত্রের সমস্যাগুলো অধিক পরিমাণে হয়ে থাকে।

অস্টিওপরোসিস/অস্থি ক্ষয় (Osteoporosis)

পেঁয়াজের কলিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যারা হাড়ের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য ভিটামিন কে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন কে  অস্থির ক্ষয় রোধ করতে সাহায্য করে। পেঁয়াজের কলিতে অস্টিওক্যালসিন (osteocalcin) নামক এক ধরণের প্রোটিন রয়েছে যা হাড়ে খনিজ লবনের ঘনত্ব বজায় রাখে।

ফুসফুসের ক্যান্সার (Lung cancer)

পেঁয়াজের কলিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ কোয়ারসিটিন (Quercetins) এবং ভিটামিন কে রয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, কোয়ারসিটিন (Quercetins) অন্যান্য ফ্লাভোনয়েডের সাথে যুক্ত হয়ে স্তন, প্রোস্টেট, কোলন, অ্যান্ডোম্যাট্রিয়াম এবং ফুসফুসে ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও পেঁয়াজের কলিতে বিদ্যমান ক্যারোটিন, জিয়া-জানথিয়াম, লুটেইন ইত্যাদি উপাদান ফুসফুস ও মুখের ক্যান্সার কমাতে সাহায্য করে।   

কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ

প্রতিদিন পেঁয়াজের কলি গ্রহণ করলে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। এটা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ফলে স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পায়। ধমনীতে রক্ত জমাট বাধা এড়াতে এটা বেশ কার্যকারী। পেঁয়াজের কলিতে বিদ্যমান ভিটামিন বি-৬ রক্তে হোমোসিস্টেইন (homocysteine) এর পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। রক্তে হোমোসিস্টেইন (homocysteine) এর অধিক উপস্থিতির কারণে সেলুলার বায়ো-ক্যামিকেল কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। পেঁয়াজের কলিতে বিদ্যমান সেলেনিয়াম (Selenium) কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ কমাতে সাহায্য করে।       

অ্যালিসিন

রসূন ও পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে অ্যালিসিন (allicin) নামক উপাদান রয়েছে যা শরীরের জন্য বেশ উপকারী। অ্যালিসিন (allicin) রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে যা হৃদপিণ্ডের সুস্থতা বজায় রাখতে বেশ কার্যকারী ভূমিকা পালন করে। অ্যালিসিন (allicin) রক্তে অপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। এই পুষ্টি উপাদানটি রক্ত জমাট বাধা এড়াতে এটা বেশ কার্যকারী। 

মুখের ক্যান্সার

পেঁয়াজের কলিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ কোয়ারসিটিন (Quercetins) এবং ভিটামিন কে রয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, কোয়ারসিটিন (Quercetins) অন্যান্য ফ্লাভোনয়েডের সাথে যুক্ত হয়ে স্তন, প্রোস্টেট, কোলন, অ্যান্ডোম্যাট্রিয়াম এবং ফুসফুসে ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও পেঁয়াজের কলিতে বিদ্যমান ক্যারোটিন, জিয়া-জানথিয়াম, লুটেইন ইত্যাদি উপাদান ফুসফুস ও মুখের ক্যান্সার কমাতে সাহায্য করে।   

যার জন্য অপকারি কারণ
পেটের ব্যথা

পেঁয়াজের কলি গ্রহণ করাটা অনেকের জন্য উপকারী হলেও এর কিছু অপকারী দিক রয়েছে। অধিক পরিমানে পেঁয়াজের কলি গ্রহণ করলে পেটে ব্যথা হতে পারে।  

গর্ভাবস্থা এবং দুগ্ধদানকারী মা

যদিও পেঁয়াজের কলিতে প্রচুর উপকারী উপাদান থাকা সত্ত্বেও এর কিছু ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। সুতরাং যারা গর্ভবতী এবং যেসব মায়েরা তাদের সন্তানদের বুকের দুধ দিচ্ছেন তাদের এই খাবার না গ্রহণ করাই ভালো।

সারমর্ম

পুষ্টিতথ্য

  • পরিবেশন আকার: ১০০ গ্রাম
  • পরিবেষনার ধরন: ১১ পিস

ক্যালরি: ৪৫ কিলোক্যালরি

  • শর্করা: ৮.৯ গ্রাম
  • ফ্যাট: ০.২ গ্রাম
  • প্রোটিন: ০.৯ গ্রাম

খাদ্য পুষ্টি

  • আঁশ: ৬.৭ গ্রাম
  • ভিটামিন- বি-২ (রিবোফ্ল্যাভিন): ০.০৩ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-৩ (নায়াসিন): ০.৩ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- সি: ১৭ মিলিগ্রাম
  • ক্যারোটিনয়েডস: ৫৯৫ মাইক্রোগ্রাম
  • সোডিয়াম: ২২ মিলিগ্রাম
  • পটাসিয়াম (K): ১০৯ মিলিগ্রাম
  • ক্যালসিয়াম (Ca): ৫০ মিলিগ্রাম
  • ফসফরাস (P): ৫০ মিলিগ্রাম
  • ম্যাগনেসিয়াম (Mg): ১০৪ মিলিগ্রাম
  • লৌহ: ৭.৫ মিলিগ্রাম
  • জিংক (Zn): ২২৯০ মাইক্রোগ্রাম
  • তামা (Cu): ৪৫০ মাইক্রোগ্রাম
  • ম্যাঙ্গানিজ (Mn): ৭৪০ মাইক্রোগ্রাম
  • অ্যাশ: ০.৮ গ্রাম
  • জলীয় অংশ: ৮৭.৬ গ্রাম