জীবনযাত্রা, সামাজিক সচেতনতা

তীব্র শীতে আমাদের করণীয়

সারা দেশ তিব্র শীতে কাঁপছে  আর প্রকৃতির এই চরম রুপ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বেশ প্রভাব ফেলেছে। শরীরের উপর শীতের প্রকোপ যেভাবে পড়ছে এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে  সাধারণ মানুষের জীবন আরো অচল অবস্থার দিকে ধাবিত হবে । প্রকৃতির এই কঠিন রূপ আমাদের মানব সমাজে বৃদ্ধ ও শিশুদের করেছে  বড় অসহায় । চারিদিকে নানান শারীরিক সমস্যা আমাদের সবার নজরে পড়ছে। পেট ফাঁপা, আমাশয়, শ্বাস কষ্ট, নিউমোনিয়া, জর, মাথাব্যাথা, গলা ব্যাথা, সাইনুসাইতিস, চোখ দিয়ে পানি পড়া  সহ বিভিন্ন রোগ।  আমরা এই অবস্থায় কি করতে পারি। আসুন সবাই সবার কাছে দ্রুত পৌছাই তথ্যের এই বার্তা ।

শীতের তিব্রতায়  জনজীবনের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে  প্রফেছর  ডাঃ নাজমুল ইসলাম ( নাক,কান, গলা – ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা )  বলেন “ শীতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে বৃদ্ধ এবং শিশুরা । এই দুই শ্রেণীর মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার শীতের তীব্রতায় ।“

প্রচণ্ড শীতের এই মুহূর্তে আমরা যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখব  –

১। যতটুকু সম্ভব গরম কাপড় অর্থাৎ উলেন কাপড় পরে শীতের তীব্রতাকে ঠেকানো ।

২। ঠাণ্ডা, বাসি  কোন খাবার না খওয়া। কারন এতে করে বয়স্কদের পেটের  সমস্যা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি।

৩। শীতে অনেকের খাবার হজম হতে দেরি হয় তাই পেট ভার ভার লাগে। এই রকম হলে অস্থির না হয়ে একটু সময় দিন শরীরকে । দেখবেন শরীরের ইম্মিউন সিস্টেম ঠিক করে নেবে আপনার শারীরিক অবস্থা।

৪। গরম টাটকা খাবার খাওয়া এই মুহূর্তে খুবি উপকারী । কারন শরীরে উৎপাদিত তাপ এই সময়ে শরীরের  উষ্ণতার জন্য যথেষ্ট প্রয়োজন ।

৫। শ্বাস কষ্ট আছে এমন কেউ থাকলে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে  যেন ঠাণ্ডা  পানিতে কোন দৈনন্দিন কাজ না করেন । এতে করে শ্বাসকষ্ট জনিত রোগের মাত্রা অস্বাভাবিক আকারে বেড়ে যেতে পারে।

৬। শিশুদের বেলায় প্রতিদিন গোসল না করানোই ভাল।

৭। গরম গরম খাবার প্রয়োজন  অনুসারে বাচ্চাদের খেতে দিন।

৮। এই ঠাণ্ডায় রুচি বর্ধক খাবার গুলো খাওয়া যেতে পারে।যেমনঃ সবজি খিচুরি, বিরিয়ানি ইত্যাদি। কারন প্রচুর ক্যালরি থাকায় এই খাবার থেকে যে  তাপ উৎপন্ন হয় তা শীতের তিব্রতা কমাতে সাহায্য করে।

৯। রোগী বা বয়স্কদের জন্য গরম সুপ যেমনঃ সবজি সুপ, থাই চিকেন সুপ খুবি উপকারী ।

১০। খেজুরএর রসের পিঠা এই সময় জনপ্রিয় খাবার  কিন্তু খেয়াল রাখবেন নিজে না দেখে অথবা না জেনে  এই রস খাবেন না । কারন এই রসের মাধ্যমে নিপা ভাইরাস ছড়াতে পারে । যা কলেরা হবার অন্যতম সহযোগী। আর এ  থেকে মৃত্যুও হতে পারে ।

১১। অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় অনেকের মাথা ব্যাথা, সানোসাইতিসের সমস্যা দেখা দেয় । এই সময়ে লঙ ও আদা দিয়ে লাল চা শরীরকে সতেজ করে তোলে ।

১২। ঠাণ্ডায় আমাশয় ভাব দেখা দিলে অবহেলা না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ খাওয়া উচিৎ।

কনকনে ঠাণ্ডায় হিম হয়ে আসছে শরীর তবুও কিছু মানুষ জীবনের তাগিদে রাস্তায় তাদের মলিন চেহারা নিয়ে দাঁড়িয়ে  কিছু পাওয়ার আশায়। আসুন এই শীতার্ত ছিন্নমূল মানুষ গুলোর জন্য কিছু শীতের কাপড় আমরা কি দিতে পারিনা? চারিদিক যখন ঠাণ্ডার হিমশীতলে ঠকঠক করে  সবাই কাঁপছে  তখন আমরা  তাদেরকে একটু সহযোগিতার উষ্ণতা দিতে পারিনা ? চলুন যে যার জায়গা থেকে এই অসহায় মানুষ গুলোর পাশে দাড়াই ।তবেই না নিজের মনুষত্ব  বোধের পরিচয়  দিতে পারব। মানুষ ভাবতে  নিজেকে  লজ্জিত হবনা ।

Comments

comments

পূর্ববর্তী পোস্ট পরবর্তী পোস্ট

আপনি হয়ত এগুলো পছন্দ করতে পারেন