গর্ভাবস্থা এবং মাতৃদুগ্ধ, গাইনী সমস্যা এবং নারী স্বাস্থ্য, নবজাতক এবং শিশুর যত্ন, সামাজিক সচেতনতা, সাম্প্রতিক, স্বাস্থ্য সংবাদ

জিকা ভাইরাস ও গর্ভবতী মা

সম্প্রতি জিকা ভাইরাস যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে সবার ভেতরে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের এই ভাইরাসটি নিয়ে চিন্তা সব থেকে বেশি। কারণ এই ভাইরাসের মূল শিকার গর্ভের শিশু।

গর্ভবতী মায়েদের জিকা ভাইরাস সম্বন্ধীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর নিচে দেওয়া হলো-

কোন গর্ভবতী মা জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে গর্ভের শিশুটি কত সময়ের মধ্যে আক্রান্ত হবে?

এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়। মায়ের শরীর থেকে কত শতাংশ ভাইরাস ভ্রূণে পৌঁছাচ্ছে তার উপর এটি নির্ভর করে।

অনেক সময় দেখা যায় যে গর্ভের সন্তানটি আক্রান্ত হয় না। আবার অনেক সময় দেখা যায় যে শিশুটি আক্রান্ত হয় কিন্তু এই ভাইরাসের কোন প্রভাব বা কোনরূপ ক্ষতিকর দিক শিশুটির মধ্যে দেখা যায় না।

জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত এলাকায় কি গর্ভবতী মহিলাদের যাওয়া উচিৎ?

অবশ্যই না। আক্রান্ত স্থান থেকে যত দূরে থাকা সম্ভব তত ভালো। তবে কোন কারণে আক্রান্ত এলাকায় যেতে হলে পর্যাপ্ত সতর্কতা গ্রহণ করা আবশ্যক।

কোন মহিলা যদি এই ভাইরাসে আক্রান্ত এলাকায় ভ্রমণে যায় তাহলে গর্ভধারণ করার জন্য সে কি কিছুদিন অপেক্ষা করবে?

জিকা ভাইরাসের লক্ষণগুলো শরীরে দেখা দিতে অন্তত ৩-৪ সপ্তাহ প্রয়োজন হয়। সুতরাং গর্ভধারণ করার আগে কোন কারণে এই ভাইরাসে আক্রান্ত স্থানে ভ্রমণে গেলে, ফিরে আসার ৩-৪ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিৎ।

মাকে যদি জিকা পরিবহনকারী মশা কামড় দেয় তাহলে কি গর্ভের সন্তানও আক্রান্ত হয়ে যাবে?

আমাদের জানা মতে, না। কারণ ব্রাজিলে এমন অনেক উদাহরণ পাওয়া গেছে যেখানে এই ভাইরাসে আক্রান্ত মা স্বাভাবিক শিশুর জন্ম দিয়েছে। অন্য দিকে মাইক্রোসেফালি রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা মাত্র ৪১০০।

গর্ভাবস্থায় যদি আমি আক্রান্ত স্থানে ভ্রমণে যাই তাহলে কী করব? কোন পরীক্ষা করব কি?

পরীক্ষা করা খুব একটা সহজ নয়। রক্তের ভেতরে এই ভাইরাস ছড়ায় এবং এর পরীক্ষা করানোর উপকরণও সীমিত। সুতরাং পরীক্ষা করানোর জন্য দুটি বিষয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। (১) আপনাকে মশা কামড়েছিল কি না? এবং (২) এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো দেখা দিয়েছে কি না?

এছাড়াও গর্ভের সন্তান ২০-২২ সপ্তাহের না হলে মাইক্রোসেফালি হয়েছে কি না তা বোঝা সম্ভব নয়। সুতরাং আক্রান্ত স্থান থেকে ফিরে আসার পর অপেক্ষা করা এবং নিজের শরীরের দিকে লক্ষ্য রাখা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না।

গর্ভবতী মায়েদের জন্য মশা বিতারনকারী ক্রিম ব্যবহার করা কি ঠিক হবে?

যে সকল মশা বিতারনকারী ক্রিমে ডিইইট(DEET), পিকারিডিন, লেবুর নির্যাশ রয়েছে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন। মশা বিতারনকারী কাপড়ও পাওয়া যায়। এছাড়া যে সকল মশা বিতারনকারী স্প্রেতে প্রিমেথ্রিন রয়েছে সেগুলোও ব্যবহার করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন স্প্রে যেন কাপড়ের উপরে করা হয়, সরাসরি ত্বকে স্প্রে করা উচিৎ নয়।

যৌন সঙ্গমের মাধ্যমে কি এই রোগ ছড়াতে পারে?

দুই একটা ক্ষেত্রে এরকম দেখা গেছে। তবে এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা এখনো নিশ্চিত হতে পারেন নাই।

পরবর্তীতে সন্তান নেওয়ার সময় জিকা ভাইরাস কি সমস্যা করতে পারে?

এরকম হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। শরীরে এই ভাইরাসের স্থায়িত্বকাল খুব বেশি নয়।

Comments

comments

পূর্ববর্তী পোস্ট পরবর্তী পোস্ট

আপনি হয়ত এগুলো পছন্দ করতে পারেন