অ্যানাল ফিস্টুলা (Anal fistula)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

ইনফেকশন, ইনফ্লামেশন, ইনজুরি বা অপারেশনের কারণে কোন অঙ্গ (যেমন অন্ত্র) যদি অন্য কোন অঙ্গের (যেমন ত্বক) সাথে সংযোগ নালীর সৃষ্টি করে তখন তাকে ফিস্টুলা বলে। পায়ুপথ এবং পায়ুপথের আশেপাশের ত্বকের সাথে অস্বাভাবিক সংযোগ নালী তৈরী হলে তা অ্যানাল ফিস্টুলা নামে পরিচিত। এর কারণে ব্যথা, রক্তক্ষরণ, তরল নির্গত হওয়া এবং জ্বর হতে পারে। ইনফ্লামেটরি বাওয়েল ডিজিজ (Inflammatory bowel disease), বিভিন্ন ইনফেকশন, ক্যান্সার (Cancer), রেডিয়েশন (Radiation) এবং ডাইভারটিকুলাইটিসের (Diverticulitis) এর কারণে অ্যানাল ফিস্টুলা হতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক বা অপারেশনের মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা যেতে পারে।

কারণ

অ্যানাল ফিস্টুলা সবচেয়ে বেশি পায়ূপথের চারপাশে ফোড়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়। যে সব কারনে ক্ষুদ্রান্ত্র প্রভাবিত হয় সে সব কারনেও এটি হতে পারে।

পায়ূ পথের ফোড়া (Anal abscess) :

ফোড়া এমন একটি সমস্যা যার কারনে এতে পুজ জমা হয় এবং প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হয়। মলদ্বারের কোন ছোট গ্রন্থি ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সাধারণত অ্যানাল ফিস্টুলা সৃষ্টি করে, এর কারণ সঠিকভাবে জানা যায়নি। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম (Immune deficiencies) বা এইডস রয়েছে তাদের এটি হতে পারে।

পায়ূ পথের ফোড়া সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স দিয়ে (ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট ইনফেকশনের চিকি্ৎসার জন্য যে ঔষধ ব্যবহৃত হয়) চিকিৎসা করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে, ফোড়ার জীবাণু দ্বারা পরিপূর্ণ তরল ফোড়া থেকে নিঃসরণের প্রয়োজন হবে।

চিকিৎসার আগে এটি ফেটে গেলে অথবা ফোড়া সম্পূর্ণ সুস্থ না হলে অ্যানাল ফিস্টুলা সৃষ্টি হতে পারে।

পায়ূ পথে ফোড়া হয়েছে এমন মানুষের প্রায় ৩০-৫০%-এর পরবর্তীতে অ্যানাল ফিস্টুলা/ভগন্দর হয়। প্রায় ৮০% অ্যানাল ফিস্টুলা মলদ্বারের ইনফেকশন থেকে হয়।

অন্ত্র প্রদাহ (Inflammation of the intestine) :

অ্যানাল ফিস্টুলা/ভগন্দর নিম্নলিখিত জটিলতা তৈরী করতে পারে:

অন্যান্য কারণ (Other causes) :

অ্যানাল ফিস্টুলা হওয়ার অন্যান্য কারণগুলো হতে পারেঃ

  • মলাশয় বা পায়ুপথের ক্যান্সারঃ কোলনের শেষে একটি এলাকা যেখানে মল সংরক্ষিত হয়।
  • যক্ষ্মাঃ এর কারনে প্রধানত ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশন ঘটে, কিন্তু পরবর্তীতে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  • এইচআইভি ও এইডসঃ এমন একটি ভাইরাস যা শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে (রোগ এবং ইনফেকশনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষাকারী) আক্রমণ করে।
  • ক্ল্যামিডিয়া (Chlamydia) : যৌন মিলনের মাধ্যমে ছড়ানো ইনফেকশন যা কোন উপসর্গ দেখায় না।
  • সিফিলিস - ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশন যা ড্রাগ, রক্ত বা যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ায়।

অ্যানাল ফিস্টুলা-এর আরও কিছু কারন হলোঃ

  • আলসার (বেদনাদায়ক কালশিটে)
  • অপারেশনের জটিলতা।
  • স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে জন্ম গ্রহন।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

 চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

ciprofloxacin ispaghula husk
methyl cellulose metronidazole

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

সিগময়ডোস্কপি অর কোলনস্কপি (Sigmoidoscopy or colonoscopy)
অ্যানো-রেক্টাল এক্সামিনেশন (Ano-rectal examination)
এনোসকপি (Anoscopy)
ফিস্টুলোগ্রাফি (Fistulography)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

সাধারণত অ্যানাল ফিস্টুলার সার্জারির ফলে জটিলতার সৃষ্টি হয়। এর ফলে ইনফেকশন, মলত্যাগের চাপ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং পুনরায় অ্যানাল ফিস্টুলা হতে পারে।

ইনফেকশন (Infection) :

যে কোন ধরনের অপারেশন ইনফেকশনের ঝুঁকি বহন করে। অ্যানাল ফিস্টুলা সম্পূর্ণরূপে অপসারিত না হলে যেমন বিভিন্ন পর্যায়ে অপারেশন সম্পন্ন হলে, নালীর (চ্যানেল) ইনফেকশন কখনও কখনও শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। যদি সেটা হয়, তাহলে অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স প্রয়োজন হতে পারে।

ইনফেকশন গুরুতর হলে হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন হতে পারে সেক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক শিরার মাধ্যমে (Intravenously) দেওয়া হয়ে থাকে।

মলত্যাগের চাপ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যাওয়া (Incontinence) : 

কিছু ক্ষেত্রে অপারেশনের ফলে Anal sphincter muscles (মলদ্বার খোলা এবং বন্ধ করার রিংয়ের মত পেশী) ক্ষতি হতে পারে। এই পেশী ক্ষতিগ্রস্ত হলে, মলদ্বার নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে যা বাওয়েল ইনকন্টিনেন্স (Bowel incontinence) হিসাবে পরিচিত। অপারেশনের পর কি ঘটবে তা অপারেশনের ধরন এবং অ্যানাল ফিস্টুলার অবস্থানের উপর নির্ভর করবে। অপারেশনের আগে Bowel incontinence থাকলে, তা আরও খারাপ হতে পারে। ফিস্টুলোটমি (Fistulotomy অ্যানাল ফিস্টুলা উন্মোচনের সার্জারি) নারী এবং ক্রন্স ডিজিজ (Crohn's disease পাচনতন্ত্রে আবরণের প্রদাহ সৃষ্টিকারী একটি অবস্থা) এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। অধিকাংশ গবেষণায় দেখা গেছে, Incontinence ৩-৭% মানুষের এর মধ্যে দেখা যায়।

পুনরায় এ্যানাল ফিস্টুলা হওয়া (Recurrence of the anal fistula)ঃ

কিছু কিছু ক্ষেত্রে, অ্যানাল ফিস্টুলা অপারেশন সত্ত্বেও পুনরায় তা হতে পারে। Fistulotomy এর পর অ্যানাল ফিস্টুলা পুনরায় হওয়ার সম্ভাবনা ৭-২১% ।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুণ কম। হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুণ বেশি। শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ এটা বড় হবে না, কিন্তু অনেক শাখায় বিভক্ত হবে এবং এজন্য অপারেশন আরো অনেক জটিল হতে পারে। যদি অবিলম্বে এর চিকিৎসা করা না হয় তবে এটি হতে অত্যন্ত বেদনাদায়ক ফোড়া হতে পারে।

উত্তরঃ অপারেশনের ফলে যদিও কিছুটা ব্যথা লাগতে পারে, তবে তা না করে রেখে দেয়া ঠিক না। কারন এতে পরবর্তীতে অনেক জটিল সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

হেলথ টিপস্‌

অ্যানাল ফিস্টুলা থেকে আরোগ্য লাভ করার জন্য অপারেশনের প্রয়োজন। ফিস্টুলা অপারেশনে সাধারণত Anal sphincter-এর একটি ছোট অংশ কাটা হয়। ফিস্টুলার তীব্রতা বেশি হলে এর চিকিৎসায় হাসপাতালে অল্প কিছুদিন থাকার প্রয়োজন হতে পারে। সঠিকভাবে চিকিৎসা করলে পায়ু পথে ফোড়া পুনরায় দেখা দিবে না।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডাঃ মোঃ আবুল হাসেম খাঁন

জেনারেল সার্জারী ( General Surgery)

এমবিবিএস(ঢাকা),, ডিএস(ভিয়েনা),

ডাঃ গোবিন্দ চন্দ্র সাহা

জেনারেল সার্জারী ( General Surgery)

এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমআরসিএস(লন্ডন), এমএস(সার্জারী)

ডাঃ মোঃ আসাদুজ্জামান

জেনারেল সার্জারী ( General Surgery)

এমবিবিএস, এমএস(সার্জারী)

ডাঃ মোঃ মুস্তাজিম চৌধুরী

জেনারেল সার্জারী ( General Surgery)

এমবিবিএস, সিএমইউ,, এমপিএইচ , এফএমএএস,, ডিএমএএস(ইন্ডিয়া)

অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ আলী

জেনারেল সার্জারী ( General Surgery)

এমবিবিএস, এমসিপিএস,(সার্জারী), এফসিপিএস(সার্জারী)

ডাঃ ইমতিয়াজ ফারুক

জেনারেল সার্জারী ( General Surgery)

এমবিবিএস, এফসিপিএস(সার্জারী)

ডাঃ মোহাম্মদ খাইরুজ্জামান

জেনারেল সার্জারী ( General Surgery)

এমবিবিএস, এফসিপিএস(সার্জারী), বিসিএস(স্বাস্থ্য), এমএস(ইউরোলজী)

ডাঃ মোঃ হানিফ (ইমন)

জেনারেল সার্জারী ( General Surgery)

এমবিবিএস(ঢাকা), এফসিপিএস(সার্জারী)